খুশকি থেকে চুল পড়ে কিনা, এই প্রশ্নটা অনেকের মাথায় আসলেও বেশিরভাগ মানুষ দুটোকে আলাদা সমস্যা মনে করেন। একটার জন্য আলাদা শ্যাম্পু কেনেন, আরেকটার জন্য আলাদা অয়েল। কিন্তু মাসের পর মাস প্রোডাক্ট চেঞ্জের পরেও সমস্যা কমে না।
যদি একই সময়ে স্ক্যাল্পে চুলকানি হচ্ছে, ফ্লেক্স পড়ছে আর চুলও পড়ছে- এই দুটো সমস্যার মধ্যে সরাসরি সায়েন্টিফিক রিলেশন আছে এবং সমস্যাগুলো আলাদা আলাদাভাবে ট্রিট করলে কোনোটাই পুরোপুরি দূর হয় না।
এই ব্লগে জানবেন, ঠিক কীভাবে খুশকি ও হেয়ার ফল একে অপরকে বাড়ায়, কোন সিম্পটম দেখলে বুঝবেন সমস্যাটা স্ক্যাল্প থেকে আসছে এবং কোন রুটিনে দুটো সমস্যাই একসাথে কন্ট্রোল করা যায়।
খুশকির কারণ কী? আসলে কী ঘটে স্ক্যাল্পে?
খুশকি মানে শুধু মাথায় সাদা ফ্লেক্স না। এটি আসলে একটি স্ক্যাল্প কন্ডিশন, যেখানে স্ক্যাল্পের ডেড সেল্ নরমালের চেয়ে অনেক বেশি ঝরতে থাকে। এর পেছনে মেইন কারণ হলো মালাসেজিয়া নামের একটি ফাঙ্গাস।
এই ফাঙ্গাস স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটা মানুষের স্ক্যাল্পে থাকে। কিন্তু যখন এটি অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন স্ক্যাল্পের চামড়া দ্রুত মরতে শুরু করে এবং ইনফ্লামেশন তৈরি হয়। স্ক্যাল্পে ঘাম জমা, হার্ড ওয়াটারের মিনারেল বিল্ডআপ বা হেভি অয়েলের অতিরিক্ত ব্যবহার মালাসেজিয়াকে আরও ফাস্ট বাড়তে হেল্প করে। যারা হিজাব পরেন তাদের ক্ষেত্রে স্ক্যাল্পে এয়ারফ্লো কম থাকে বলে ঘাম ও হিট ট্র্যাপ হয়, এটাও ড্যান্ড্রাফের একটি বড় কারণ।
খুশকি দুই ধরনের হয়। ড্রাই ড্যান্ড্রাফে স্ক্যাল্প ড্রাই থাকে এবং সাদা ছোট ফ্লেক্স সহজেই ঝরে পড়ে। অয়েলি ড্যান্ড্রাফে স্ক্যাল্প অয়েলি এবং হলুদাভ বা বড় ফ্লেক্স স্ক্যাল্পে আটকে থাকে। দুই ক্ষেত্রেই মেইন প্রবলেম স্ক্যাল্পের ইনফ্লামেশন এবং এই ইনফ্লামেশনই চুল পড়ার পথ তৈরি করে।
খুশকি দূর করার উপায় এবং চুল পড়া কমানোর রুটিন
এই দুটো সমস্যা একসাথে সমাধান করতে হলে সঠিকভাবে রুটিন ফলো করতে হবে। প্রতিটা স্টেপ একটা নির্দিষ্ট কাজ করে এবং একটা বাদ দিলেই পুরো রুটিনের ফিডব্যাক কমে যায়।
স্টেপ ১: সঠিক অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু দিয়ে শুরু করুন
স্ক্যাল্পের ফাঙ্গাল বিল্ডআপ কমানোর জন্য এই স্টেপটা সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট। Tresemme Tea Tree Shampoo ইউজ করুন। এর টি ট্রি অয়েল ও জিঙ্ক পাইরিথিওন ফর্মুলা ফাঙ্গাসের বিরুদ্ধে সরাসরি কাজ করে, ইচিং বন্ধ করে এবং স্ক্যাল্পকে ফ্রেশ রাখে।
শ্যাম্পু করার সময় শুধু চুলে অ্যাপ্লাই করলেই হবে না। ফিঙ্গার টিপ দিয়ে স্ক্যাল্পে হালকাভাবে ২-৩ মিনিট ম্যাসাজ করুন, তারপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে শ্যাম্পুর অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো স্ক্যাল্পে সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। সপ্তাহে ৩ বার ইউজ করুন।
স্টেপ ২: স্ক্যাল্প ট্রিটমেন্ট দিয়ে ইনফ্লামেশন কমান
শ্যাম্পুর পরে Mielle Hawaiian Ginger Scalp Treatment স্ক্যাল্পে অ্যাপ্লাই করুন। এটি স্ক্যাল্প সুদিং আব আনে, বিল্ডআপ ক্লিন করে এবং ফলিকলের চারপাশের ইনফ্লামেশন কমায়। স্ক্যাল্প হেলদি থাকলে ফলিকলও হেলদি থাকে এবং হেয়ার গ্রোথ সাইকেল নরমাল হয়।
বেশিরভাগ মানুষ শ্যাম্পু দিয়েই থেমে যান। কিন্তু স্ক্যাল্প ট্রিটমেন্ট না দিলে ফলিকলের ভেতরের ড্যামেজটা থেকেই যায় এবং চুল পড়া কমে না। এই স্টেপটাই শ্যাম্পু ও সিরামের মধ্যে ব্রিজ হিসেবে কাজ করে।
স্টেপ ৩: হেয়ার গ্রোথ সিরাম দিয়ে ফলিকল রিঅ্যাক্টিভেট করুন
WishCare Hair Growth Serum স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন। খুশকির কারণে উইক হয়ে যাওয়া ফলিকলকে আবার অ্যাক্টিভ করতে সিরামের অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো কাজ করে। এই স্টেপটা বেশিরভাগ মানুষ বাদ দেন, কিন্তু শুধু খুশকি বন্ধ করলেই হেয়ার ফল বন্ধ হয় না। ফলিকলকেও রিকভার করতে হবে।
→ [ড্যান্ড্রাফ হেয়ার ফল কম্বো দেখুন: carnesia.com/hair-fall-solution/]
অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পুতে কোন ইনগ্রেডিয়েন্ট দেখবেন?
বাংলাদেশে অনেক ধরনের অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু পাওয়া যায়, কিন্তু সব শ্যাম্পু একভাবে কাজ করে না। শ্যাম্পু কেনার আগে লেবেলে নিচের ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো খুঁজুন:
জিঙ্ক পাইরিথিওন (জেডপিটিও): ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়া দুটোর বিরুদ্ধেই কাজ করে। বেশিরভাগ ক্লিনিক্যালি প্রুভড্ অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পুতে এটি থাকে।
টি ট্রি অয়েল: ন্যাচারাল অ্যান্টিফাঙ্গাল ইনগ্রেডিয়েন্ট। স্ক্যাল্পকে ফ্রেশ রাখে এবং চুলকানি কমায়।
স্যালিসাইলিক অ্যাসিড: স্ক্যাল্পের ডেড সেল এক্সফোলিয়েট করে এবং পুরনো বিল্ডআপ ক্লিন করে। Learn more.
কেটোকোনাজল: সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টিফাঙ্গাল ইনগ্রেডিয়েন্ট। গুরুতর বা লং-টার্মের ড্যান্ড্রাফের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর।
ফ্র্যাগারেন্স-যুক্ত বা প্যারাবেন-যুক্ত শ্যাম্পু অ্যাভয়েড করুন। এই ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো স্ক্যাল্পে আরও ইরিটেশন তৈরি করে এবং ইনফ্লামেশন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
রুটিন শুরু করলে কতদিনে রেজাল্ট পাবেন?
সঠিক রুটিন নিয়মিত মেনে চললে সাধারণত যা ঘটে:
প্রথম ২-৩ সপ্তাহে চুলকানি ও ফ্লেক্স কমতে শুরু করে। স্ক্যাল্প আগের চেয়ে ক্লিন এবং কম অস্বস্তিকর লাগে।
৪-৬ সপ্তাহে হেয়ার ফল আস্তে আস্তে কমে আসে। ফলিকল রিকভার হতে শুরু করে এবং চুল পড়ার পরিমাণ নরমালের কাছাকাছি আসে।
২-৩ মাসে স্ক্যাল্প পুরোপুরি হেলদি হয় এবং নতুন চুল গজাতে শুরু করে।
একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, এই টাইমলাইন তখনই কাজ করবে যখন তিনটা স্টেপ একসাথে ফলো করবেন। শুধু শ্যাম্পু বদলালে খুশকি কমবে কিন্তু হেয়ার ফল কমবে না। আর শুধু সিরাম দিলে ফলিকল উদ্দীপিত হবে কিন্তু স্ক্যাল্পের মূল সমস্যাটা থেকে যাবে।
সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্ন
খুশকি পুরোপুরি সারলে কি চুল পড়া আপনাআপনি বন্ধ হয়?
খুশকি কমলে স্ক্যাল্পের ইনফ্লামেশন কমে এবং হেয়ার ফলও কমতে শুরু করে। তবে উইক হয়ে যাওয়া ফলিকল পুরোপুরি রিকভার করতে হেয়ার গ্রোথ সিরামও রুটিনে এড করতে হবে। শুধু অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু দিয়ে চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধ হয় না।
প্রতিদিন অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ইউজ করা যাবে?
না। প্রতিদিন ইউজ করলে স্ক্যাল্পের ন্যাচারাল অয়েল নষ্ট হয় এবং স্ক্যাল্প আরও ড্রাই বা ইরিটেটেড হতে পারে, যেটা খুশকি বাড়িয়ে দেয়। সপ্তাহে ২-৩ বার ইউজই যথেষ্ট। বাকি দিনগুলোতে শুধু পানি দিয়ে স্ক্যাল্প রিফ্রেশ করুন।
খুশকি থাকলে চুলে তেল দেওয়া ঠিক কিনা?
ভারী তেল স্ক্যাল্পে সরাসরি দিলে বিল্ডআপ বেড়ে খুশকি আরও খারাপ হতে পারে। হালকা স্ক্যাল্প-স্পেসিফিক অয়েল যেমন টি ট্রি বা রোজমেরি-বেসড অয়েল বেছে নিন এবং সরাসরি স্ক্যাল্পে না দিয়ে চুলের লেন্থে ইউজ করুন। স্ক্যাল্পের অয়েলিং দরকার হলে স্ক্যাল্প ট্রিটমেন্ট ইউজ করতে পারেন।
একটা রুটিনে দুটো সমস্যার সমাধান
খুশকি ও হেয়ার ফল আলাদা আলাদাভাবে ট্রিট করতে গেলে সময় ও টাকা দুটোই বেশি লাগে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটার সমাধান না করলে আরেকটাও কমে না। সঠিক অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু, স্ক্যাল্প ট্রিটমেন্ট ও হেয়ার গ্রোথ সিরাম এই তিনটা মিলিয়ে কম্বো রুটিন ফলো করলে দুটো সমস্যাই একসাথে কমতে শুরু করে।
Carnesia-র ড্যান্ড্রাফ হেয়ার ফল কম্বোতে এই তিনটা প্রোডাক্টই একসাথে পাবেন। ১০০% অরিজিনাল প্রোডাক্ট, সারা বাংলাদেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং ৭ দিনের রিটার্ন পলিসি-তে পাবেন।
