ত্বকের যত্নে ঘরোয়া রূপচর্চার ১০ টি উপায়।

ত্বকের যত্নে ঘরোয়া রূপচর্চার ১০ টি উপায়।

সবাই সুন্দর ও প্রাণবন্ত ত্বক পেতে চায়। কেউ নিস্তেজ ও প্রাণহীন ত্বক প্রত্যাশা করে না। তাই সুন্দর ও দুত্যিময়  ত্বক পেতে চলুন জেনে নেই ১০টি টিপস।

.কাঁচা দুধ

কাঁচা দুধ ত্বকের জন্য খুবই উপকারী তা সকলেরই জানার কথা। এটি ত্বকের রুক্ষতা, শুষ্কতা দূর করে ত্বককে মশ্চারাইজ করে ত্বকের লোমকূপ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে থাকে এবং ত্বকের মৃতকোষ দূর করে। ত্বকের ডিসকালারেশন দূর করে ও ত্বকের বিভিন্ন ধরণের কালচে দাগ কমিয়ে ত্বক ফর্সা এবং গ্লোয়িং করে তোলে।কারণ কাঁচা দুধে রয়েছে ‘ভিটামিন এ’, ‘ভিটামিন ডি’, ‘ভিটামিন বি৬’, ‘ভিটামিন বি১২’ , বায়োটিন, প্রোটিন, ল্যাকটিক এসিড, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম। ফর্সা ও গ্লোয়িং ত্বকের জন্য কোন প্রকার ক্যামিকাল ছাড়া কাঁচা দুধের ফেসিয়াল ব্যবহার করতে পারেন। এই মিল্ক ফেসিয়াল তৈরি করতে কাঁচা দুধের সঙ্গে যে সকল উপকরণ লাগবে তার সবগুলোই ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। বাসায় ফিরে ফেস ওয়াস দিয়ে মুখ ধোয়ার পর একটি তুলোর বল দুধে ভিজিয়ে মুখে বুলিয়ে নিন প্রতিদিন। এক সপ্তাহের মধ্যেই ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি ও অন্যান্য সমস্যা দূর হতে দেখতে পাবেন।

. মসুর ডালের ফেসপ্যাক

মসুর ডাল গুঁড়ার সঙ্গে হলুদ, গোলাপজল ও পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে তৈরি করুন পেস্ট। মুখে ও গলায় লাগিয়ে রাখুন এটি। আধা ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। কিছুদিন পরেই ত্বকের পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।

 






ত্বকের যত্নে মসুরের ডালের ব্যবহার

. বেসন ও লেবুর রস

রূপচর্চার জন্য বেসন ও লেবু শ্রেষ্ঠতম উপাদান। লেবুর কার্যকরী ও অ্যান্টি টক্সিন গুণাবলী ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে, ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে।  ২ চা চামচ বেসন, ১ চা চামচ শুকনো কমলার খোসার গুঁড়ো এবং আধা চা চামচ দুধ মিশিয়ে মুখে এবং ঘাড়ে লাগিয়ে রাখতে হবে। লাগানোর সময় মুখে হালকা ভাবে সারকুলার মোশনে ম্যাসাজ করে। ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্যাকটি ত্বকের জন্য অনেক উপকারি।

ত্বকের যত্নে লেবু ও বেসন

 

. টমেটোর পেস্ট

একটি সুশ্রী এবং ত্রুটিহীন ত্বকের অধিকারী হতে টমেটো রসের সাথে চন্দনের গুঁড়ো ও গোলাপ জল মিশিয়ে প্রয়োগ করুন। এটা ক্লান্ত ত্বক কে সতেজ করে আপনাকে আরো উজ্জ্বল দেখাতে সাহায্য করবে।

ত্বকের যত্নে টমেটো

 

 

. অ্যালোভেরা

২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, কয়েক টুকরো শসা এবং কয়েক ফোঁটা গোলাপ জল, শসা এবং অ্যালোভেরা জেল পেস্ট করে নিন। এরসাথে গোলাপ জল মিশিয়ে নিন। এই প্যাকটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ২৫-৩০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাকটি ত্বকের ইনফেকশন দূর করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে থাকে।

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা

 

.মধু ও বেকিং সোডার মিশ্রণ

মধু ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ও লোমকূপের ভাঁজ দূর করে ত্বকেকে করে তুলে প্রাণবন্ত, সতেজ এবং ত্বকের ইলাস্টিসিটি বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে বেকিং সোডা হচ্ছে প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েট এজেন্ট যা ত্বকের প্রদাহ দূর করে এবং রক্তের সঞ্চালন বাড়ায়।

১ টেবিল চামচ বেকিং সোডা,আধা চামচ মধু,১ চা চামচ অলিভ অয়েল

একটি পাত্রে সবগুলো উপাদান নিয়ে ভালো করে মেশাতে হবে যতক্ষণ না ভালো একটি পেস্ট পাওয়া যায়। মুখ ভালো করে ধুয়ে মাস্কটি লাগাতে হবে এবং ১০ মিনিট রাখতে হবে। তারপর কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলুন। উজ্জ্বল, মসৃণ এবং সুন্দর ত্বক পেতে সপ্তাহে ২ ব্যবহার করুন।

ত্বকের যত্নে মধু ও বেকিং সোডা

 

.কলা ও দুধের মিশ্রণ

ত্বকের রুক্ষতা দূর করার পাশাপাশি নরম ও কোমল ত্বক পেতে ব্যবহার করুন পাকা কলার ফেসপ্যাক। কলাতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ডি। একটি পাকা কলা চটকে ২ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ মেশান। ১ টেবিল চামচ আনসল্টেড বাটার ও মুঠোভর্তি গোলাপের পাপড়ি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখুন। ত্বক টানটান হয়ে গেলে ফেস ওয়াস দিয়ে ধুয়ে নিন।

ত্বকের যত্নে কলা ও দুধ

 

. বেসন ও হ্লুদ গুড়োর ফেসপ্যাক

এটা হল স্কিন হোয়াইটনিং ফেসপ্যাক।স্কিনের ব্ল্যাকহেডস বা কোনোরকম ব্ল্যাকস্পট যদি থাকে,সেটা দূর করে স্কিনকে করে তুলবে উজ্জল।  ২চামচ হলুদের সঙ্গে ২চামচ বেসন ভালো করে মিশিয়ে নিন।কাঁচা দুধ দিতে পারেন স্মুথ পেস্ট বানানোর জন্য। এবার এই পেস্টটা মুখে,গলায় লাগান।এবার ২০ মিনিট রেখে দিন।এরপর হাতে একটু জল নিয়ে হালকা ম্যাসাজ করুন।তারপর ফেস ওয়াস দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।সপ্তাহে একবার করুন।

ত্বকের যত্নে হলুদ

 

 

. চন্দনের মিশ্রণ

চন্দন, দই, মধু  উপাদানগুলোতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে। ত্বকের নানা সমস্যা দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত করতে এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করতে পারেন।

এই প্যাকটি আপনার ত্বকে দীপ্তিময় আভা এনে দিবে এবং ত্বককে করবে মসৃণ ও সতেজ। এই প্যাক তৈরির জন্য যেসব উপকরণ লাগবে তা হলো

 

এক টেবিল চামচ চন্দন।

এক চা চামচ টক দই।

১/২ চা চামচ মধু।

যেভাবে প্রস্তুত করবেন

চন্দনের গুঁড়ার সাথে দই মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। তারপর এর সাথে টক দই ও মধু মিশিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ফেসপ্যাক তৈরি হয়ে গেলে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে মাখুন। তারপর এক ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এই প্যাকটি এক ঘন্টা রাখলে ভালো ফলাফল পাবেন। এক ঘন্টা পর ফেস ওয়াস দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। রোজ এই ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে আপনি ভালো ফলাফল পাবেন।

ত্বকের যত্নে চন্দন

 

১০. গোলাপ জলের ফেসপ্যাক

আধা কাপ গোলাপ জল, একটা লেবুর রস, ক-ফোঁটা মধু একত্রে মিশিয়ে নিলে স্কিন-ফ্রেশনার টনিক হয়ে গেল। এ টনিক দিনে দুবার তুলোয় করে মুখে লাগাতে পারেন। যাদের মুখের চামড়া খসখসে তারা রাতে মুখ ভালো ভাবে ধুয়ে সমপরিমাণ গোলাপ জলের সাথে গ্লিসারিন মুখে, হাতে এবং পায়ে মেখে নিতে পারেন। ভোরে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলবেন। এতে মুখের খসখসে ভাব থাকবে না এবং ত্বক কোমল হবে।


ত্বকের জরনে গোলাপ জল

আপনারা চাইলে আপনাদের পছন্দের স্কিন কেয়ার আইটেম আমাদের কারনেসিয়া অনলাইন সপ থেকে খুব সহজে পেয়ে যেতে পারেন। যা এই ঘরোয়া উপায় গুলোর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে ফলাফল আরও ভালো পাবেন।

শুষ্ক ত্বকের বা ড্রাই স্কিনের যত্ন কিভাবে করবেন। How to care dry skin.

শুষ্ক ত্বকের বা ড্রাই স্কিনের যত্ন কিভাবে করবেন। How to care dry skin.

শুষ্ক ত্বকের যেমন উপকারিতা আছে তেমন অপকারিতাও আছে। আপনার যদি শুষ্ক ত্বক হয় তাহলে বলবো আপনার ব্রণ একনি নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। কিন্তু আপনার শুষ্ক ত্বকেরই পরিচর্যা বেশী করতে হবে কারণ শুষ্ক ত্বক মানেই মৃত কোষ দেখা যাওয়ার দুঃচিন্তা, ফ্ল-লেস মেকাপ না পাওয়ার দুঃচিন্তা,স্কিনের গ্লো কমে যাওয়ার দুঃচিন্তা তো আছেই।

তবে অল্প একটু নিয়ম মেনে পরিচর্যা করলেই আপনি সুন্দর ত্বকের অধিকারী হবেন।

 

কেন ত্বক শুষ্ক হয়?

বংশগত বা জিনগত কারণে অনেকের ত্বকে তেলগ্রন্থিগুলো প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকে। এর ফলে পর্যাপ্ত তেল নিঃসৃত হয় না। তাই ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

*   বয়স ৪০-এর পর তেল ও ঘর্মগ্রন্থির সংখ্যা কমে যায়। তাই পর্যাপ্ত গ্রন্থি না থাকার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। ছোটদের তেলগ্রন্থিগুলো সঠিকভাবে গঠিত থাকে না, ফলে তাদের ত্বকও শুষ্ক হতে পারে।যাদের ত্বকের গঠন পাতলা, তাদের ত্বক শুষ্ক হয়।

*  ক্লোরিনযুক্ত পানিতে অতিরিক্ত সাঁতার কাটলে বা গোসল করলে বিশেষ করে গরম পানি বা ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হয়।

*  অতিরিক্ত আকাশপথে ভ্রমণ, ভিটামিন এ ও বি এবং জিঙ্ক ও ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব হলেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

*   পানিশূন্যতা হলে যেমন-ডায়রিয়া, উচ্চ মাত্রার জ্বর, অতিরিক্ত ঘামা এবং প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পানি পান না করা হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

*   কিছু চর্ম রোগের কারণে যেমন একজিমা, ডার্মাটাইটিস, সোরিয়াছিসে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

*   কিছু ওষুধ সেবন, এয়ার কন্ডিশনে অতিরিক্ত অবস্থান, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত পারফিউম ব্যবহার ইত্যাদিও ত্বক শুষ্ক করে।

 






 

প্রতিদিন সকালে করণীয়

সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে যে কাজটা করবেন তা হলো, ঠান্ডা পানির ঝাপটা  দিয়ে আপনার মুখ কয়েকবার ধুয়ে নিন। এতে আপনার মুখের ত্বক খুব দ্রুত রিফ্রেশড হয়ে উঠবে।

শুষ্ক ত্বকের যত্ন

 

তারপর একটি ময়েশ্চারাইজিং ক্লিনজার দিয়ে আপনার মুখ আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। কেমিক্যাল জাতীয় ফেইস ওয়াশ ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক ফেইস ওয়াশ ব্যবহার করার ট্রাই করবেন কারণ প্রাকৃতিক উপাদানগুলোই ত্বকের জন্য সবচেয়ে ভালো।

এবার আপনার মুখ আলতোভাবে মুছে নিয়ে একটি ভালো টোনার লাগিয়ে নিন।  এক্ষেত্রে আপনি গোলাপজল ইউজ করতে পারেন কারণ এটি খুব ভালো টোনার হিসেবে কাজ করে।

এখন ময়েশ্চারাইজিং-এর পালা। আপনার ত্বকে ভালো কোন ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগিয়ে নিন। যতক্ষণ পর্যন্ত এটি ত্বকের সাথে ভালোভাবে মিশে না যায় ততক্ষণ আস্তে আস্তে ম্যাসাজ করতে থাকুন কারণ ময়েশ্চারাইজিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এবার সানস্ক্রিনের  সময়। আপনি যদি বাড়ির বাইরে যান তবে বাসা থেকে বের হওয়ার  ১৫-২০ মিনিট আগে একটি ভালোমানের সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। এসপিএফ ৩০ আছে কি না লক্ষ্য রাখবেন। বাইরে গেলে  প্রতি কয়েক ঘন্টা পরপর পুনরায় সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন।

 

sun scream for dry skin

 

আপনি যদি মেকআপ ব্যবহার করতে চান তবে লাইট মেকআপ আপনার জন্য বেস্ট হবে। সেক্ষেত্রে আপনি ময়েশ্চারাইজার, বিবি ক্রিম এবং কনসিলার ব্যবহার করতে পারেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন মেকআপের ফলে ত্বক যেন অতিরিক্ত শুষ্ক না হয়ে যায়।

 

কীভাবে প্রতিকার করবেন ?

*  ত্বক শুষ্ক হওয়ার প্রকৃত কারণ বের করে তা পরিহার করতে হবে।

*  ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর আগে মুখের মরা কোষ পরিষ্কার করুন।

 

simple moisturizer for dry skin

 

*  দীর্ঘক্ষণ গোসল করবেন না। গরম পানিতে গোসল করবেন না।

*   ময়েশ্চারাইজারযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন।

*   নরম সুতির আরামদায়ক কাপড় পরার চেষ্টা করবেন।

*   সারা দিনে দেড় থেকে দুই লিটার পানি পান করুন।

*   প্রতিদিন মৌসুমি ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন এবং শাকসবজি বেশি করে খাবেন।

 

প্রাকৃতিক উপায়ে শুষ্ক ত্বকের যত্ন

*   অলিভ অয়েল গোসলের কয়েক মিনিট আগে সারা শরীরে মেখে গোসল করুন।

*  অলিভ অয়েল ১ চামচ + লবণ ৫ চামচ + ১ চামচ লেবুর রস দিয়ে তৈরি স্ক্রাব মুখে ও সারা শরীরে লাগাতে পারেন। এতে মরা কোষ দূর হবে।

*   শুষ্ক জায়গায় মধু ম্যাসেজ করে ২-৩ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

*   অ্যালোভেরা জেল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

*  প্রচুর শাকসবজি খান। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন। ত্বকের পরিচর্চা করুন।

 

শুষ্ক ত্বকের যত্ন

 

মেকাপ করার পূবে করণীয়

শুষ্ক ত্বকে মেকাপ করার একটু পর দেখা যা বিশেষ কিছু অংশে মেকাপ ক্র্যাক করে, মেকাপ সেট হতে সময় নেয় কিন্তু তাও ফ্ল-লেস মেকাপ লুক পাওয়া যায় না।  একটি কাজ আপনাকে অবশ্যই করতে হবে।

মেকাপ করার ৫-১০মিনিট আগে অবশ্যই মশ্চারাইজার ব্যবহার করুন তবে ফেস অয়েল ব্যবহার করা ভালো যাদের ত্বক অনেক বেশী শুষ্ক তাদের ক্ষেত্র।  কারণ ফেস অয়েল খুব তাড়াতাড়ি ত্বকে শোষন করে  ত্বককে মশ্চার করে। সেক্ষেত্রে অর্গান অয়েল এবং জোজবা অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। আপনার স্কিন গ্লোয়ি করতে সাহায্য করবে।

এরপর পরবর্তী ধাপ মেনে মেকাপ সম্পূর্ণ করুণ।

চুলের যত্নের সম্পর্কে জানতে আমাদের “ঘরে বসেই চুলের যত্ন ও সকল সমস্যার সমাধান” পোষ্ট পরতে পারেন।

এছাড়া আপনারা চাইলে আপনাদের প্রয়োজনীয় তেল এবং অন্যান্য স্কিন কেয়ার আইটেম আমাদের কারনেসিয়ার অনলাইন সপ থেকে পেয়ে যেতে পারেন। যা আপানর শুষ্ক ত্বককে করে তুল্বে আরও প্রানবন্ত।

 

Ramadan greetings from carnesia

সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি : রমজান – ২০২০(বাংলাদেশ)

খোস আমদেদ মাহে রমজান, সবাইকে কারনেসিয়ার পক্ষ থেকে রমজানের শুভেচ্ছা। রমজানের এই মহিম্মনিত মাসে সবার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষীত হোক, এই দোয়া সবার জন্য। দেশের এই ক্রান্তিকালে করোনা প্রতিরোধে সকলকে ঘরে থাকার আহব্বান জানাই। প্রয়োজনই সবকিছু অনলাইনে অর্ডার দেবার চেষ্টা করুন। আপনাদের সুবিধার জন্য আমরা রেখেছে ৩০% ডিস্কাউন্ট ইন অল প্রোডাক্টস। তাই আর দেরি না করে এখনি অনলাইনে অর্ডার করুন

 

রমজান মাসে অনেকই সেহরী ও ইফতারের টাইম নিয়ে কনফিজস থাকে। তাদের সুবিধার জন্য আমাদের এই প্রয়োস। আশা করি আপনাদের কাজে লাগবে।






 

রমজান ক্যালেন্ডার-২০২০(বাংলাদেশ)। ramadan calendar-2020 ( Bangladesh)

                                                                                          সেহারী ও ইফতারের সময়সূচীঃRamadan Calendar-2020, Hijri-1441

 

Source of Ramadan time schedule of bangladesh: islamic foundation.

 

Coronovirus-effected-countries

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এবং আমাদের করনীয়?

নোভেল করোনাভাইরাস অথবা কোভিড-১৯, আজকের পৃথিবীতে এই শব্দটা জানেনা, এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না। মহামারি আকার নেয়া এই ভাইরাসটির আজ পৃথিবী ৭০০ কোটি মানুষের জন্য আতংকের কারণ হয়ে দাড়িছে। ডিসেম্বর-২০১৯ চীনের হুপেই প্রদেশের উহান নগরীতে শনাক্ত করা হয় করোনাভাইরাস। প্রথমে দিকে শুধু মাত্র চিনে মধ্যে বেশষ্ঠিত থাকলেও, আজ এই পোষ্ট পাবলিশের দিন পর্যন্ত আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩,৩৫,০০০ জন এবং আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ১৯২টি, যার মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন প্রায় ১৪,৫০০ বা বেশি। সবচেয়ে ভয়ের কথা হচ্ছে আক্রান্তের হার ক্রমেই বাড়ছে। ১১ মার্চ ২০২০ তারিখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ব্যাধিটিকে একটি বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

Short report of effect coronavirus on 22 marchকরোনাভাইরাস(কোভিড-১৯) আক্রান্তের সংক্ষিত রিপোর্ট

Source: worldmeters info

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ কি?

 

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ হচ্ছে একটি ভাইরাস, যা মানুষের শ্বাসতন্ত্রজনীত গুরুতর রোগের সৃষ্টি করে এবং শ্বাসতন্ত্রজনীত রোগের কারনে তা পরবর্তীতে মানব দেহের বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের সমস্যা তৈরি করে।






View of covid 19

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ লক্ষনসমূহঃ

করোনাভাইরাস আক্রান্তদের উপসগ্র দেখা দিতে ১-১৪ দিন সময় লাগে। সাধারন ফ্লুর মতো উপসর্গ্র দেখা দেয়। জ্বর, সর্দি, কাশি, মাঝে মাঝে গলা ব্যাথা হয়। যা পরবর্তীতে শ্বাসকষ্টের সমস্যা এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের সমস্যা, যেমন বুক ব্যথা বা চেস্ট টাইটনেস হয়ে থাকে। যা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে নিউমোনিয়া, একাধিক অঙ্গ বিকল এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

Symptoms of coronovirus in bangla

Source: Wikipedia

করোনাভাইরাস আক্রান্তের বা সংক্রমনের কারনঃ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে মূলত কাশি বা হাঁচির ফলে বাতাসে ভাসমান শ্লেষ্মা কণা থাকা ভাইরাসের জিবাণু সুস্থ এক ব্যাক্তির নাক,মুখ অথবা চোখের মধ্যে শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমন ছড়ায়। এছাড়া ভাইরাস কণা কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে কোনো স্থানে বা টেবিলে বা অন্য কোনও পৃষ্ঠে পরার পর সেই স্থান কোন সুস্থ ব্যাক্তি হাত দিয়ে স্পর্শের মাধ্যমে এবং সেই হাত নাকে, মুখে বা চোখে হাত দিলে ঐ ব্যক্তির শ্লেষ্মাঝিল্লীর মধ্য দিয়ে ভাইরাস দেহে প্রবেশ করতে পারে।

Spreading of coronovirus

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ চিকিৎসাঃ

খুবি দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে, এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ সরাসরি কোন চিকিৎসা  বা টিকা বের হয়নি। আক্রান্ত ব্যক্তির রোগের উপর্সগ দেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর কারণ জানতে হলে আমাদের একটু পেছনে তাকাতে হবে। কোভিড-১৯ আসলে সার্স বা মার্স ভাইরাস গোত্রের। যদি সার্স বা মার্স ভাইরাস চিকিৎসা বা টিকা আবিষ্কার হলেও তা কোভিড-১৯ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সহজ বাংলায় তার প্রধান কারণ হচ্ছে, কোভিড-১৯ প্রতিনিত তার রুপ পরিবর্তন করছে। সাইন্টিফিকলি কোভিড-১৯ মানুষের সংস্পশে আসলে তার জেনটিক পরিবর্তন করে, যার ফলে এই সল্পসময়ে বিজ্ঞানীরা এর জন্য সঠিক ঔষধ বা টিকা আবিষ্কার করতে পারিনি। তবে ডাক্তারদের মতামত অনুযায়ী আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই এখন সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভুমিকা রাখছে করোনাভাইরাস থেকে কোন আক্রান্ত ব্যাক্তিকে সারিয়ে তোলার জন্য, এজন্য সুষম খাদ্যভাস, প্রচুর পরিমান পানি পান, ভিটামিন “সি” যুক্ত খাবার গ্রহন বা যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃব্দি করে তা গ্রহন করা জরুরী।

 

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ প্রতিরোধঃ

ইংরেজীতে একটা কথা আছে,” prevention is better than cure”। এর করোনাভাইরাসের জন্য এই কথা ১০০% সত্য রুপ নিয়েছে। যেহেতু এখনো এর কোন সঠিক ঔষধ বা টিকা আবিষ্কার হয়নি, প্রতিরোধ এক মাত্র উপায় করোনাভাইরাস থেকে বাচার।

 

হূ (who-world health origination) মতে ৬টি উপায় অনুসারের মাধ্যমে করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করা বা নিজেকে বাচানো সম্বভ। জাষ্ট আপনাদের সাধারন জীবনে কিছু পরিবর্তন আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে সহয়তা করবে করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে।

Way to prevent coronovirus in bangla

Source: CDC

১) হাত ধোয়ার অভ্যাস করাঃ খুবি খুবি গুরুতপূর্ণ একটি বিষয়। বাহির থেকে আসার পর, অনাকাংখিত কোন কিছু স্পর্স করার পর ভালো করে খারযুক্ত সাবান বা হান্ড ওয়াসার দিয়ে অন্ততো ২০সেকেন্ড হাত ভালো মতো ধুতে হবে। হাত ধোয়ার আগে কোনওভাবে হাত দিয়ে মুখ, নাক অথবা চোখ দয়া যাবে না। এক্ষেত্রে হ্যান্ড সানিটাইজার বা হ্যান্ড রাব একটি ভালো উপায় হাতকে জীবাণুমক্ত করার। ৭০% এলকোহোলযুক্ত হ্যান্ড সানিটাইজার বা হ্যান্ড রাব একটি কার্যকারী উপাদান হাতকে যার্ম মুক্ত করার। এখানে বলা বাঞ্ছনীয়, একটা ছোট হ্যান্ডসানিটাইজার বা হ্যান্ড রাব আমাদের সকলের সাথেই বহন করা দরকার। কারন হ্যান্ডসানিটাইজার বা হ্যান্ড রাব করার জন্য কোন পানি বা কিছুর দরকার হয় না। ২/৩ ফোটা বা ব্যবহারের উপর নির্ভর করে ভালোমত মেখে নিলেই হয়।

Cleaing hand for coronovirusHand Sanitizer in bangladesh by carnesia

 

২) হাইজেনিক থাকাঃ হাছি বা কাসি দেবার সময় টিস্যু বা ডিস্পোসাল ফ্রব্রিক দিয়ে নাক এবং মুখ ঢাকা। বাবহারে পর টিস্যু বা ডিস্পোসাল ফ্রব্রিক যথা স্থানে ফেলা এবং তারপর হাত ধুয়ে ফেলা বা হ্যান্ড সানিটাইজার  ব্যবহার করা। মুখেয় মাস্ক ব্যবহার করা, যদিও মাস্ক ব্যবহার আক্রান্ত ব্যক্তি করা উচিত।

Hnad sanitizer use for covid-19

৩) সামাজিক দূরত্ব বঝায় রাখাঃ হূ-এর সামাজিকভাবে একজন আর একজনের সাথেয় মতে নূন্যতম ১মিটার বা ৩ ফিট দূরত্ব বঝায় চলাচল বা অবস্থান করা উচিত। এটি অনেক গুরুতপূর্ণ। আমরা প্রায়ই সামাজিক দায়ব্ধতার কারনে এই নিয়মটি মানি না। কিন্তু এখনকার অবস্থা এই নিয়মটি অব্যশই অনুসরণ করতে হবে। কর্মদন থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

৪) কিছু স্থান স্পর্শ না করাঃ আপনার মুখ, নাক অথবা চোখ হাত দিয়ে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুনস। খুব প্রয়োজনী হলে ভাল করে হাত পরিষ্কার করে অথবা টিস্যু ব্যবহার করে স্পর্শ করুন।

 

৫) চারপাশ পরিস্কার রাখাঃ ঘর বা অফিসের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। যে কোণ স্থান যা মানুষ সাধারনত স্পর্শ করে তা ঘনঘন এন্টিব্যাক্টিরিয়াল বা ক্ষারজাতিও পদার্থদ্বারা পরিষ্কার রাখতে হবে।

 

৬) একাকি অবস্থান করাঃ কোন অবস্থা নিজেকে আক্রান্ত মনে হলে, সকলের কাছ থেকে দূরত্ব বঝায় রেখে একাকি থাকতে হবে। আপনি যদি সত্যি আক্রান্ত হন, আপনার জন্য পরিবারের বা বন্ধুদের কেউ আক্রান্ত না হয় তার জন্য এটা করা জরুরি। একে বলা হয় হোম কোয়ারেন্টাইন।  কোন ভাবে আপনার স্পর্শ করা কিছু অন্য কেউ স্পর্শ না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।  আক্তান্তের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযগ করতে হবে। এক্ষেত্রে ঘর থেকে বের না হয়ে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে ডাক্তারের পরামর্শ বাঞ্ছনীয়।

 

এছাড়া আক্রান্ত দেশ থেকে আগত যে কারো কাছ থেকে দূরে থাকবেন, এমনকি সে যদি আপনার পরিবারের কেউ হয় তারপর। বিদেশ থেকে ফেরার পর অনন্ত ১৪দিন বিদেশ ফেরত ব্যক্তির সেলফ কোয়ারেন্টাইন থাক উচিত, এটি শুধু আপনাকে নয়, আপনার পরিবার, দেশ ও জাতির সুরক্ষার জন্য করতে হবে।

 

যদি এখন পর্যন্ত মৃত্যুর হার আক্রান্তের তুলনায় কম, তবু নতুন ভাইরাস বলে এর আক্রমনের ভয়াবহতা এখনো নিধারিতভাবে বলা যাচ্ছে না। সর্তকতা হচ্ছে সবচেয়ে বড় উপায় একে প্রতিরোধ করা।

আর একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, অনলাইন বা সোসাল মিডিয়া অনেক ধরনের বিভ্রান্তিমূ্লক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, এই সব তথ্যতে বিভ্রান্ত না হয়ে বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন। প্রয়োজনে ডাক্তারের সাথে অথবা সরকার প্রদত্ত হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।

 

তথ্য সুত্রঃ

উইকিপিডিয়া

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ছবিঃ গুগল